সোমবার ১৫ জুন ২০২৬
Online Edition

দলের কঠিন অবস্থায় নায়ক হওয়ার সুযোগ থাকে ------মিরাজ

স্পোর্টস রিপোর্টার: মাত্র à§© রানের জন্য সেঞ্চুরী করতে পারেননি মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রোটিয়া পেসার কাগিসো রাবাদার অফস্টাম্পের বাইরের বলে ক্যাচ হয়ে শতক হাতছাড়া করেন সিরাজ। সেঞ্চুরির এতে কাছে ৯৭ রানে আউট হয়ে মিরাজেরও খারাপ লেগেছে। তবে খারাপ লাগাটা শুধু মাত্র সেঞ্চুরি মিসের জন্যই নয়, লক্ষ্য ও আশা পূরণ না হওয়ায় বেশি আফসোস মিরাজের। দলের অনেক বিপদে হাল ধরে বাংলাদেশ দলের বিপদের বন্ধুর প্রমান দিয়েছেন। ঘরের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকা বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে যার সবশেষ প্রমাণ। দল জিতেনি তবে ইনিংস ব্যবধানে হার এড়িয়ে পাল্টা লক্ষ্য দিতে পেরেছে। দ্বিতীয় ইনিংসে মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ৯৭ রান। à§© রানের জন্য পাননি টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। তৃতীয় দিন জাকের আলীর সঙ্গে জুটিতে যোগ করেন à§§à§©à§® রান। সে জুটিই বাংলাদেশকে ইনিংস ব্যবধানে হারের লজ্জা থেকে বাঁচায়। গতকাল মিরপুরে প্রথম টেস্ট সংবাদ সম্মেলনে তার কাছে প্রশ্ন ছিল বিপদের সময়ে এমন ব্যাটিং পছন্দের কী না। উত্তরে মিরাজ বলেন,‘আমি সবসময় কঠিন অবস্থা উপভোগ করার চেষ্টা করি। বেশি কিছু চিন্তা করি না। শুধু ভাবি যে আমি যদি এখান থেকে ভালো খেলি, তাহলে হিরো হওয়ার সুযোগ থাকবে। নিজের সেঞ্চুরি মিস নিয়ে মিরাজ বলেন,‘ সেঞ্চুরি মিস হলে ব্যাটসম্যানের অবশ্যই খারাপ লাগে। অবশ্যই খারাপ লাগছে। তবে সেঞ্চুরির চেয়ে আমি যে পরিকল্পনায় খেলছিলাম, সেটা যদি কার্যকর করতে পারতাম, তাহলে আরও ভালো লাগত। আমি সেঞ্চুরির নিয়ে অতোটা চিন্তা করিনি। চিন্তা করেছিলাম দলটাকে কতদূর নিতে পারি।’ সাদা বলে মিরাজকে উপরে আনা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। টেস্টেও কি আরও উপরে ব্যাটিং করতে চান তিনি নিজে? তবে এসব ভাবনায় নেই মিরাজের, ‘আমার কাছে ভালো লাগছে, সুযোগটা কাজে লাগাতে পারছি। আমি যেখানে খেলি সেখানে যদি ভালো করি তাহলে দল ভালো জায়গায় যাবে। খারাপ করলে দল রেজাল্ট করবে না। আমি চেষ্টা করছি আরও ভালো করার, আরও উন্নতি করার। কারণ, আমি দেখেছি আমি ভালো করলে দল ভালো করে। ক্যারিয়ারের শুরুতে আমার গড় ছিল কম। আলহামদুলিল্লাহ এখন উন্নতির চেষ্টা করছি।’ মিরপুর শের-ই-বাংলায় বাংলাদেশ টস হেরে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রান করে। দ্বিতীয় ইনিংসে তাইতো তিনশ’র বেশি রান করেও হারতে হয়েছে à§­ উইকেটের বড় ব্যবধানে। মিরাজও মনে করেন প্রথম ইনিংসের কম রান ডুবিয়েছে বাংলাদেশকে। মিরাজ বলেন, ‘আমরা ব্যাটসম্যানরা রান করতে পারিনি। দ্বিতীয় ইনিংসের রানটা প্রথম ইনিংসে হলে ম্যাচটা ভিন্ন হতে পারত। দুই সেশনের আগেই অলআউট হয়ে গিয়েছি। এই জন্য পিছিয়ে পড়েছি। আর টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম ইনিংস খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ মিরপুর টেস্টের আগে সাকিব আল হাসান ছিলেন কেন্দ্রবিন্দুতে। তিনি খেলবেন কি না- এ নিয়ে বিভিন্ন নাটকীয়তার পর শেষ অবধি দেশেই আসতে পারেননি তিনি। সাকিবকে মিস করেছেন? প্রশ্নটা ছিল দলের প্রতিনিধি হয়ে আসা মেহেদী হাসান মিরাজের কাছে। উত্তরে তিনি বলেন, ‘সাকিব ভাইয়ের বিষয়টা তো আমরা সবাই জানি। তিনি কী কারণে আসতে পারেননি বা খেলতে পারেননি, এটা আমার মনে হয় না কারও কাছে অজানা। তিনি একজন কিংবদন্তি ক্রিকেটার। বাংলাদেশের হয়ে তিনি অনেক অর্জন করেছেন। অস্বীকার করতে পারব না। যেহেতু একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, আমার মনে হয়, সবাই তার পাশে থাকা উচিৎ। ’ মিরাজের অনুভব, টেস্টে পাঁচ থেকে ছয় নম্বর ব্যাটারদের যদি নতুন বল খেলতে হয়, মানে টপ অর্ডার যদি বলের ঔজ্জ্বল্য থাকতেই আউট হয়ে যায়, তাহলে à§« ও ৬ নম্বরে নামা ব্যাটারদের তা মোকাবিলা করা কঠিন। মিরাজ মনে করেন, এ টেস্টে টস জেতা থেকে শুরু করে সবই বাংলাদেশের অনুকূলে ছিল। কিন্তু তারা প্রথম ইনিংসে বেশি বাজে ব্যাটিং করায় ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে গেছে। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ১০৭ রানে অলআউট হয়ে যায়, দ্বিতীয় ইনিংসে ৩০৭ করলেও আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। à§­ উইকেটের জয় পায় প্রোটিয়ারা। টাইগার অলরাউন্ডার বলেন, ‘আমাদের দিকেই ছিল সবকিছু ছিল। আমরা টস জিতে ব্যাট করেছি। আমরা চেয়েছিলাম ব্যাট করতে। কারণ মিরপুরে চতুর্থ দিনে ব্যাট করাটা কঠিন। আমরা ওভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। মিরাজ আরও মনে করেন, ‘দ্বিতীয় ইনিংসের রানটা প্রথম ইনিংসে হলে খেলা অন্যরকম হতো। প্রথম ইনিংসেই ব্যাকফুটে চলে গিয়েছি। দুই সেশনের আগে, ১০৬ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছি। টেস্ট ক্রিকেটে অবশ্যই প্রথম ইনিংসের রানটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ